ধরুন, আপনি একটা অ্যাপ বানিয়েছেন। হতে পারে দোকানের অর্ডার নেওয়ার অ্যাপ, বা হিসাব রাখার, বা কোনো কুইজের। প্লে স্টোরে তুলে দিয়েছেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ পরে দেখলেন, ডাউনলোড হাতে গোনা।
সমস্যাটা হয়তো অ্যাপে না, খুঁজে পাওয়ায়। প্লে স্টোরে লক্ষ লক্ষ অ্যাপ। আপনার অ্যাপটা কেউ খুঁজে না পেলে ডাউনলোডও করবে না।
এই খুঁজে পাওয়ানোর কাজের নাম ASO। App Store Optimization। প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে নিজের অ্যাপ সামনে আনা, আর যাঁরা দেখলেন, তাঁদের ইনস্টল করার দিকে টানা।
ASO আর SEO-র তফাত কী?
দুটোর ধারণা একই: মানুষ যা খোঁজে, সেখানে নিজেকে সামনে আনা।
- SEO: Google-এর মতো সার্চে ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়ানো। বিস্তারিত: SEO কী?
- ASO: অ্যাপ স্টোরের ভেতরে অ্যাপ খুঁজে পাওয়ানো।
শব্দগুলোর আরও মানে দেখতে পারেন ডিজিটাল মার্কেটিং শব্দকোষ লেখায়।
একটা সত্যি কথা। অ্যাপ স্টোর কীভাবে অ্যাপ সাজায়, তার পুরো নিয়ম স্টোরগুলো নিজেরাই জানায় না, আর সেটা বদলাতেও থাকে। তাই নিচের কাজগুলো সুযোগ বাড়ায়, গ্যারান্টি দেয় না।
ASO-র ৭টা সহজ কাজ
১. অ্যাপের নাম পরিষ্কার রাখুন
অ্যাপের নামেই মানুষ বোঝে, এটা কীসের। শুধু একটা অচেনা ব্র্যান্ডের নাম দিলে কেউ খুঁজে পাবে না।
ধরুন, দোকানের হিসাবের অ্যাপ। নামে “হিসাব” বা “দোকানের খাতা” কথাটা থাকলে খোঁজার সময় সুবিধা হয়। নামের জন্য স্টোরের একটা অক্ষর-সীমা থাকে, তাই ছোট আর পরিষ্কার রাখুন। সীমাটা কত, স্টোরের নিয়মে দেখে নিন, কারণ সেটা বদলাতে পারে।
২. মানুষ কী লিখে খোঁজে, ভেবে দেখুন
এগুলোকে বলে কীওয়ার্ড। “দোকানের হিসাব রাখার অ্যাপ”, “বাংলা কুইজ”, “ইনভয়েস বানানোর অ্যাপ”।
নিজেকে ক্রেতা ভেবে প্লে স্টোরে এই শব্দগুলো লিখে দেখুন, কী কী অ্যাপ আসে। সার্চ বক্সে লিখতে গেলে স্টোর যে পরামর্শ দেয়, সেটাও ভালো সূত্র।
৩. বর্ণনার শুরুতেই কাজের কথা
বর্ণনায় প্রথম কয়েকটা লাইনই মানুষ পড়ে। সেখানে সোজা বলুন, অ্যাপটা কী করে আর কার কাজে লাগে।
“আমাদের অ্যাপ একটি অসাধারণ সমাধান” ধরনের কথা এড়িয়ে চলুন। তার চেয়ে লিখুন, “দোকানের রোজকার বিক্রি আর খরচ মোবাইলেই লিখে রাখুন, মাস শেষে লাভ দেখুন।” আপনার ক্রেতা বাংলাভাষী হলে বাংলায় বর্ণনা দিন।
৪. আইকনটা চেনার মতো করুন
আইকন হলো অ্যাপের মুখ। ছোট জায়গায় একটাই সহজ ছবি, পরিষ্কার রং। বেশি লেখা বা ভিড় করা ছবি ছোট স্ক্রিনে পড়া যায় না।
৫. স্ক্রিনশট দিয়ে গল্প বলুন
অনেকেই বর্ণনা পড়েন না, স্ক্রিনশটই দেখেন। প্রথম দুই-তিনটা স্ক্রিনশটে অ্যাপের সবচেয়ে বড় সুবিধাটা দেখান। প্রতিটার ওপরে এক লাইনের ছোট লেখা দিন, যেমন “রোজকার হিসাব এক নজরে”।
৬. রিভিউ আর রেটিং সামলান
রিভিউ দেখে অনেকেই ইনস্টলের সিদ্ধান্ত নেন। খুশি ব্যবহারকারীকে ভদ্রভাবে অনুরোধ করুন, ভালো লাগলে একটা রিভিউ দিতে। কিন্তু কিনে বা বানিয়ে রিভিউ নেবেন না। এতে স্টোরের নিয়ম ভাঙে, অ্যাপই সরিয়ে দিতে পারে।
কেউ খারাপ রিভিউ দিলে ভদ্রভাবে উত্তর দিন। সমস্যা ঠিক করে জানিয়ে দিন। অন্য যাঁরা দেখবেন, তাঁরা এটাও খেয়াল করেন।
৭. অ্যাপ ঠিকঠাক রাখুন, নিয়মিত আপডেট দিন
বারবার ক্র্যাশ করে, ধীর চলে, এমন অ্যাপে ব্যবহারকারী থাকে না। ছেড়ে দিলে স্টোরেও তার প্রভাব পড়তে পারে। ভুল ঠিক করুন, নিয়মিত আপডেট দিন।

নাম, বর্ণনা, আইকন, স্ক্রিনশট আর রিভিউ, পাঁচটাই দেখার জিনিস
ফল বুঝবেন কীভাবে?
প্লে স্টোরের ডেভেলপারদের জন্য নিজস্ব কনসোল আছে, অ্যাপ স্টোরেরও আছে। সেখানে দেখা যায়, কতজন আপনার অ্যাপের পেজ দেখলেন আর কতজন ইনস্টল করলেন।
একবারে অনেক কিছু বদলাবেন না। একটা বদলান, কয়েক সপ্তাহ দেখুন। তাহলে বুঝবেন কোন বদলে কাজ হলো।
কী করবেন না
- বানানো রিভিউ, কেনা রেটিং বা ভুয়া ইনস্টলের পেছনে টাকা ঢালবেন না।
- অন্য অ্যাপের নাম বা ব্র্যান্ড নিজের বর্ণনায় ঢোকাবেন না।
- যা অ্যাপ পারে না, তা পারে বলে লিখবেন না।
শুরু করবেন কীভাবে?
আপনার অ্যাপ থাকলে আজই একটা কাজ করুন। না থাকলে এই লেখাটা মনে রাখবেন, যেদিন অ্যাপ বানাবেন।
আজকের কাজ: ফোনে নিজের অ্যাপের স্টোর-পেজ খুলুন। একজন অচেনা মানুষ হিসেবে দেখুন। পাঁচ সেকেন্ডে কি বোঝা যাচ্ছে, অ্যাপটা কী করে? না বোঝা গেলে বর্ণনার প্রথম লাইন বা প্রথম স্ক্রিনশট বদলান।





