অর্গানিক গ্রোথ মানে বিজ্ঞাপনে টাকা না ঢেলে ধীরে ধীরে গ্রাহক বাড়ানো। কেউ Google-এ খুঁজে আপনার দোকানে এলেন, কেউ বন্ধুর মুখে শুনে এলেন, কেউ আগে একবার কিনে আবার এলেন। এঁদের জন্য আপনাকে আলাদা করে টাকা দিতে হয়নি। এটাই অর্গানিক গ্রোথ।
পাড়ার একটা পুরোনো মিষ্টির দোকানের কথা ভাবুন। সাইনবোর্ডে বিজ্ঞাপন নেই। তবু বিকেল হলে লাইন পড়ে। কারণ লোকে জানে, এখানকার রসগোল্লা টাটকা আর ওজনে কম দেয় না। একজন আরেকজনকে বলে, আর দোকান চলে।
অনলাইনেও ঠিক একই জিনিস হয়। শুধু রাস্তার জায়গায় থাকে Google, ফেসবুক আর ইনবক্স।
অর্গানিক গ্রোথ আর বিজ্ঞাপনের তফাত কোথায়?
বিজ্ঞাপন অনেকটা ভাড়া করা দোকানের মতো। টাকা দিলে সামনে জায়গা পাবেন, টাকা বন্ধ করলে জায়গাও চলে যাবে।
অর্গানিক গ্রোথ নিজের জমির ওপর দোকান বানানোর মতো। সময় লাগে, খাটতে হয়। কিন্তু একবার দাঁড়িয়ে গেলে প্রতি মাসে ভাড়া গুনতে হয় না।
তাই বলে বিজ্ঞাপন খারাপ, তা না। নতুন কিছু চালু করার সময় বা ঈদের আগে তাড়াতাড়ি মানুষ আনতে বিজ্ঞাপন কাজে লাগে। ভালো ব্যবসা দুটো মিলিয়েই চলে। তবে আপনার ভরসা যেন শুধু বিজ্ঞাপনের ওপর না থাকে।
অর্গানিক গ্রোথের ৭টি সহজ উপায়
১. ক্রেতার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে লেখা লিখুন
ক্রেতারা রোজ যা জিজ্ঞেস করেন, সেটাই আপনার সেরা লেখার বিষয়।
“সুতি শাড়ি কীভাবে ধুতে হয়?” “শীতে কোন কাপড় পরলে আরাম?” এই ধরনের উত্তর ফেসবুকে পোস্ট করুন। ওয়েবসাইট থাকলে সেখানেও লিখুন। কেউ Google-এ এই প্রশ্ন করলে আপনার লেখা সামনে আসতে পারে। এই কাজের নাম SEO। Google-এ নিজের পেজ খুঁজে পাওয়ানোর ব্যবস্থা। বিস্তারিত পাবেন SEO কী? Google-এ ওয়েবসাইট দেখানোর সহজ উপায় লেখায়।
২. পুরোনো ক্রেতাকে ভুলবেন না
নতুন ক্রেতা টানতে যত খাটুনি, পুরোনো ক্রেতাকে আবার আনতে তার চেয়ে কম খাটুনি। এটা বহু দোকানদারই জানেন, কিন্তু কাজে ভুলে যান।
একটা খাতায় বা ফোনে ক্রেতাদের নাম আর কী কিনেছেন, লিখে রাখুন। ঈদ বা শীত এলে যাঁরা আগে কিনেছেন, তাঁদের একটা ভদ্র মেসেজ দিন: “আপা, নতুন কালেকশন এসেছে। দেখবেন?” ক্রেতার অনুমতি ছাড়া অকারণে বারবার মেসেজ দেবেন না। বিরক্ত হলে তিনি আপনাকে ব্লক করে দেবেন।
৩. ক্রেতার মুখে মুখে ছড়ানোর ব্যবস্থা করুন
সবচেয়ে সস্তা আর সবচেয়ে কাজের প্রচার হলো খুশি ক্রেতা।
পণ্য ঠিকমতো পৌঁছালে ক্রেতাকে বিনয় করে বলুন, “ভালো লাগলে একটা ছবি বা দুই লাইন লিখে দিলে খুব খুশি হব।” অনুমতি নিয়ে সেটা পেজে দিন। বানানো রিভিউ কখনো দেবেন না। একদিন ধরা পড়লে ভরসা যায়।
৪. পেজে নিয়মিত কিছু দিন, তবে কাজের কিছু
রোজ “অর্ডার করুন” লিখে পোস্ট দিলে লোকে বিরক্ত হয়। তার চেয়ে মাঝেমধ্যে কাজের কথা বলুন। পণ্য কীভাবে বানানো হয়, প্যাকেটে কী থাকে, কীভাবে যত্ন নেবেন, কোন প্রশ্ন সবাই করে।
সপ্তাহে তিনটা ভালো পোস্ট রোজকার দশটা ফাঁকা পোস্টের চেয়ে ভালো।
৫. Google-এ নিজের ব্যবসার তথ্য ঠিক রাখুন
আপনার যদি এমন দোকান থাকে, যেখানে মানুষ সরাসরি আসতে পারে, তাহলে Google Business Profile-এ ঠিকানা, ফোন নম্বর আর খোলার সময় দিয়ে রাখুন। এতে কেউ “আমার কাছাকাছি” লিখে খুঁজলে আপনাকে পেতে পারেন। আপনার ব্যবসা যোগ্য কি না, তা আগে Google-এর নিয়মে দেখে নিন।
৬. ক্রেতার জন্য কেনা সহজ করুন
ভিজিটর আসা আর ক্রেতা হওয়া এক জিনিস না। যাঁরা এসেছেন, তাঁরা কিনছেন না কেন, সেটা খুঁজে ঠিক করাও অর্গানিক গ্রোথের অংশ। কারণ বিজ্ঞাপন ছাড়া আসা মানুষ হারানো সবচেয়ে বড় ক্ষতি। এ নিয়ে আলাদা লেখা আছে: অনলাইন দোকানে ভিজিটর আসে, কিন্তু বিক্রি হয় না কেন?
৭. হিসাব রাখুন, কোথা থেকে ক্রেতা আসছে
যদি জানেন না কোন কাজে ক্রেতা আসছে, তাহলে কোনটা বাড়াবেন তা-ও জানবেন না। নতুন ক্রেতাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন, “আমাদের কথা কোথায় শুনেছিলেন?” উত্তরগুলো একটা খাতায় টিকচিহ্ন দিয়ে লিখে রাখুন। এক মাস পরে দেখবেন, কোন পথটা সবচেয়ে বেশি কাজ করছে।
লাভ-লোকসানের হিসাব নিয়ে ভাবনা থাকলে সাইটের দোকানের লাভ-লোকসান ক্যালকুলেটর দেখে নিতে পারেন। আরও কিছু কাজের টুল পাবেন /tools/ পেজে।

ক্রেতা কোথা থেকে আসছেন, খাতায় লিখে রাখুন
অর্গানিক গ্রোথে কতদিন লাগে?
সঠিক উত্তর হলো, বলা যায় না।
পুরোনো ক্রেতাকে মেসেজ দিলে কয়েক দিনেই সাড়া মিলতে পারে। আর Google থেকে ক্রেতা আসতে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসও লাগতে পারে। এটা নির্ভর করে আপনার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কেমন, আপনি কতটা কাজের তথ্য দিচ্ছেন, আর কত নিয়মিত লিখছেন, তার ওপর।
কেউ যদি বলে, “৩০ দিনে ১০০ অর্ডার গ্যারান্টি”, তাহলে সাবধান। এমন কথা কেউ সৎভাবে দিতে পারে না।
শুরু করবেন কীভাবে?
সব উপায় একসঙ্গে ধরতে যাবেন না। এই সপ্তাহে শুধু একটা বেছে নিন।
আমার পরামর্শ, পুরোনো ক্রেতাদের তালিকা দিয়ে শুরু করুন। কারণ এখানে খরচ নেই, আর ফলও তাড়াতাড়ি চোখে পড়ে।
আজকের কাজ: ফোন খুলে গত তিন মাসে যাঁরা আপনার কাছ থেকে কিনেছেন, তাঁদের পাঁচজনের নাম লিখুন। কাল তাঁদের একজনকে ভদ্রভাবে জিজ্ঞেস করুন, পণ্যটা কেমন লেগেছে।





