ধরুন, আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে কিছু টাকা জমিয়েছেন। পরিবার ঢাকার বাইরে ছোট একটা প্লট দেখছে। বিক্রেতা ফোনে বললেন, “তিন কাঠার প্লট, জায়গা ভালো।” দলিলের কপি এল। সেখানে লেখা: ৪.৯৬ শতাংশ।
আপনি আটকে গেলেন। তিন কাঠা আর পাঁচ শতাংশ কি এক? ঘরের নকশা করতে গেলে আবার লাগবে বর্গফুট। তিন রকম মাপ, কোনটা কী!
সোজা উত্তর: সাধারণ হিসাবে ১ কাঠা প্রায় ১.৬৫ শতাংশ। তিন কাঠা মানে প্রায় ৫ শতাংশ। চলুন গোড়া থেকে দেখি, যাতে এরপর আর কেউ ঘুরিয়ে বোঝাতে না পারে।
তিনটা মাপের সম্পর্ক
সবকিছু বর্গফুটে নামিয়ে আনলে হিসাব সহজ হয়। প্রচলিত মাপ এরকম:
- ১ শতাংশ (শতক) = ৪৩৫.৬ বর্গফুট। এই মাপ সব জায়গায় এক।
- ১ কাঠা = ৭২০ বর্গফুট (১৬ ছটাক, প্রতি ছটাক ৪৫ বর্গফুট)।
- ১ বিঘা = ২০ কাঠা = ১৪,৪০০ বর্গফুট, প্রায় ৩৩ শতাংশ।
- ১ একর = ১০০ শতাংশ = ৪৩,৫৬০ বর্গফুট।
শতাংশ আর শতক নিয়ে ঘাবড়াবেন না। কথায় লোকে দুটোই বলে, মাপ একই। ইংরেজিতে একে ডেসিমেল বলে, যদিও দশমিকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
কাঠা থেকে শতাংশ, শতাংশ থেকে কাঠা
কাঠাকে শতাংশে বদলাতে ৭২০ কে ৪৩৫.৬ দিয়ে ভাগ দিন। উল্টোটা করতে ভাগ উল্টে দিন। দরকারি কয়েকটা অঙ্ক হাতের কাছে রাখুন:
| কাঠা | বর্গফুট | শতাংশ (প্রায়) |
|---|---|---|
| ১ কাঠা | ৭২০ | ১.৬৫ |
| ২ কাঠা | ১,৪৪০ | ৩.৩১ |
| ৩ কাঠা | ২,১৬০ | ৪.৯৬ |
| ৫ কাঠা | ৩,৬০০ | ৮.২৬ |
| ১০ কাঠা | ৭,২০০ | ১৬.৫৩ |
উল্টো দিক থেকে: ৫ শতাংশ মানে ২,১৭৮ বর্গফুট, প্রায় ৩.০২ কাঠা। ১০ শতাংশ মানে ৪,৩৫৬ বর্গফুট, প্রায় ৬.০৫ কাঠা।
শুরুর গল্পের প্লট তাহলে মিলে গেল। তিন কাঠা মানে ২,১৬০ বর্গফুট, প্রায় ৪.৯৬ শতাংশ। বিক্রেতা বাড়িয়ে বলেননি।
এক মিনিটে হিসাবের ৩টা ধাপ
হাতে ভাগ দিতে মন না চাইলে আমাদের ফ্রি টুলে বসিয়ে নিন: জমির মাপ রূপান্তর: শতক, কাঠা, বিঘা। লগইন লাগে না।
- টুল খুলে “কত?” ঘরে সংখ্যা লিখুন, যেমন ৩।
- “কোন মাপে?” থেকে কাঠা বা শতাংশ বেছে নিন।
- সঙ্গে সঙ্গে শতক, কাঠা, বিঘা, একর, বর্গফুট আর বর্গমিটার দেখুন, তারপর দলিলের সঙ্গে মেলান।

এক মাপ লিখুন, বাকি সব মাপ নিজে নিজে দেখে নিন
সবচেয়ে বড় ফাঁদ: কাঠা সব জায়গায় এক নয়
শতাংশের মাপ সব জায়গায় ৪৩৫.৬ বর্গফুট। কিন্তু কাঠার মাপ এলাকাভেদে বদলায়। কোথাও ৭২০ বর্গফুট, কোথাও অন্যরকম। বিঘার ক্ষেত্রেও একই কথা।
তাই কেউ “কাঠা” বললে প্রথমে জিজ্ঞেস করুন, “আপনাদের এলাকায় এক কাঠায় কত বর্গফুট?” আমাদের টুলে “আপনার এলাকার মাপ” নামে একটা অংশ আছে। সেখানে কাঠার বর্গফুট বদলে দিলে সব হিসাব আপনার মাপে বের হবে।
জমি দেখতে গেলে যা মিলিয়ে নেবেন
- দলিলের মাপ, বিক্রেতার মুখের মাপ আর সরেজমিনের মাপ তিনটা একই কি না।
- খতিয়ান আর অন্যান্য কাগজ। দলিলের সঙ্গে নাম আর মাপ মেলে কি না।
- সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা মাপিয়ে নেওয়া। অনুমান ভরসা করবেন না।
- দাম কাঠা প্রতি বলা হচ্ছে না শতাংশ প্রতি। এক জায়গায় কাঠা, আরেক জায়গায় শতাংশ ধরে তুলনা করলে ভুল হয়।
সাবধানতা
এই টুল আর এই লেখা মোটামুটি বোঝার জন্য। কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপনের হিসাব নয়। জমি কেনাবেচা বা রেজিস্ট্রির আগে দলিল, খতিয়ান আর সার্ভেয়ারের মাপ দেখে নিন। দরকার হলে আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন। সংখ্যায় ছোট ভুল হলেও টাকার অঙ্কে তা অনেক বড় হয়ে যেতে পারে।
আরও কাজের হিসাব
জমির সঙ্গে ঋণের কথাও আসে। মাসে কিস্তি কত হবে, মোট কত ফেরত দিতে হবে, সেটা দেখতে পারেন ঋণের কিস্তি ক্যালকুলেটর-এ। সব ফ্রি টুল পাবেন /tools/ পেজে।
আজকের কাজ: কোনো প্লটের কথা শুনলে কাঠা বা শতাংশে নয়, বর্গফুটে নামিয়ে লিখে রাখুন। তারপর দলিলের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।





